বাংলাদেশে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি ‘স্বাভাবিক’ হলে এ অঞ্চলে সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) চেন্নাইয়ে এক অনুষ্ঠানে সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। হিন্দুস্তান টাইমস এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে।
জয়শঙ্কর বলেন, যেসব দেশ সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রাখে, ভারত তাদের সমর্থন ও সহায়তা দেয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি মহামারির সময় টিকা কূটনীতি এবং পরে শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকটে সহায়তার কথা বলেন।
তিনি বলেন, যেসব প্রতিবেশী দেশ ‘সন্ত্রাসবাদ’ চালিয়ে যায়, তাদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার ভারতের রয়েছে। এসব বিষয়ে নয়াদিল্লির দৃষ্টিভঙ্গি পরিচালিত হয় ‘সাধারণ বুদ্ধি ও জাতীয় স্বার্থের’ ভিত্তিতে।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে, হস্তক্ষেপ না করার অবস্থান বজায় রেখে এবং ভারতের নিরাপত্তা স্বার্থরক্ষা করে ভারত কীভাবে তার ‘প্রতিবেশী-প্রথম’ নীতি পুনর্গঠন করছে―এ প্রশ্নের জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, মাত্র দুই দিন আগে বাংলাদেশে ছিলাম। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করতে আমি সেখানে গিয়েছিলাম।
‘আমাদের অনেক প্রতিবেশী আছে—এটা আমাদের সৌভাগ্য। আর আমি বিষয়টি খুব সাধারণ বুদ্ধির ভাষায় ব্যাখ্যা করতে চাই। কারণ দিন শেষে কূটনীতি কোনো রকেট সায়েন্স নয়; এটি পরিশীলিত ভাষায় বলা সাধারণ বুদ্ধির কথা।’
সাধারণ বুদ্ধিতে আপনি একজন প্রতিবেশীর সঙ্গে কী করেন
‘যে কোনো প্রতিবেশীর কথাই ধরুন। ধরুন, আপনি কোনো হোস্টেলে থাকেন, সেখানেও আপনার প্রতিবেশী আছে। যদি প্রতিবেশী আপনার প্রতি ভালো হয় বা ক্ষতিকর না হয়, তাহলে স্বাভাবিক প্রবৃত্তি হলো সদয় হওয়া, তাকে সাহায্য করা। একটি দেশ হিসেবেও আমরা ঠিক সেটাই করি।’
ইউক্রেন যুদ্ধের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এই যুদ্ধের কারণে খাদ্যসংকট, জ্বালানি সংকট, আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছিল। সে সময়ও আমরা অনেক প্রতিবেশীকে জ্বালানি সরবরাহ করেছি, খাদ্য সহায়তা দিয়েছি, সার দিয়েছি। অর্থাৎ, আমাদের যা ছিল, তা আমরা ভাগ করে নিয়েছি।

0 মন্তব্যসমূহ